কালবৈশাখীতে লবণের মাঠ তছনছ, বিপাকে ৫০ হাজার চাষি
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
৩০-০৪-২০২৬ ১১:২০:০২ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
৩০-০৪-২০২৬ ১২:১১:২২ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
টানা কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপকূলজুড়ে বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে লবণ উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত অন্তত ৫০ হাজার মানুষ চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। একইসঙ্গে উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারমূল্য কম থাকায় লোকসান আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চাষিরা।
চাষিদের অভিযোগ, চলতি সপ্তাহে তিন দিনের উৎপাদিত লবণ মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যার ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিতে পানিতে মিশে যায়। এতে বহু মাঠে উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। আবহাওয়ার এই বিরূপ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই লবণ উৎপাদন থেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে (১৫ নভেম্বর–১৫ মে) কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৬৮ হাজার ৫০৫ একর জমিতে লবণ চাষ হয়েছে। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে ১৩ লাখ ৭৩ হাজার ২৭২ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ লাখ ৪৯ হাজার টন কম। চলতি মৌসুমে মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৮ লাখ ১০ হাজার টন, যেখানে দেশের চাহিদা ২৭ লাখ ৩৫ হাজার টন।
টেকনাফের হোয়াইক্যং, হ্নীলা, সাবরাংসহ বিভিন্ন এলাকায় ঝড় ও বৃষ্টিতে বহু লবণ মাঠের ‘বেড’ নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
শাহপরীর দ্বীপের লবণচাষি নুরুল ইসলাম বলেন, “নতুন করে উৎপাদন শুরু করতে অন্তত সাত থেকে আট দিন সময় লাগবে। এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কয়েকশ মণ লবণ পানিতে মিশে গেছে।”
নোয়াপাড়ার চাষি গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘‘এক মণ লবণ উৎপাদনে খরচ ৩০০ টাকা হলেও বিক্রি করতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়, ফলে নিয়মিত লোকসান গুনতে হচ্ছে।’’
সাবরাংয়ের চাষি আলী আহমদ বলেন, ‘‘ঋণ নিয়ে চাষ শুরু করলেও ঝড়-বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন ঋণ শোধ করা নিয়েই অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তিনি।’’
টেকনাফ সাবরাং লবণচাষী কল্যাণ ও ব্যবসায় সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমদ বলেন, “ঝড়-বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিরা আরও বিপাকে পড়েছেন। এই খাতে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ জড়িত।”
বিসিক কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে জাতীয় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে মাঠ ও মিল পর্যায়ে প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজার টন লবণ মজুদ রয়েছে।’’
চাষিদের মতে, আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজারো পরিবার বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়বে।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচএইচ/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স